মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সবাইকে উজ্জীবিত করবে ‘লালজমিন’

চৌদ্দ বছর ছুঁই ছুঁই এক কিশোরীর গল্প। তার দু’চোখ জুড়ে মানিক বিলের লাল পদ্মের জন্য প্রেম। তার কৈশরেই সে শোনে বাবা মায়ের মধ্য রাতের গুঞ্জন। শুধু দুটি শব্দ কিশোরীর মস্তকে আর মনে জেগে রয়; তা হলো- মুক্তির স্বাধীনতা।

ওই অল্প বয়সেই কিশোরী এক ছায়ার কাছ থেকে প্রেম পায়। বাবা যুদ্ধে চলে যায়। অগোচরে কিশোরী নানা কৌশলে যুদ্ধে যাবার আয়োজন করে, সশস্ত্র যুদ্ধ। বয়স তাকে অনুমোদন দেয় না।

এবার কিশোরীর সেই ছায়া-প্রেম সম্মুখে দাঁড়ায়। কিশোরী তার সেনাপতিকে চিনতে পারে। তারপর যুদ্ধযাত্রা। লক্ষে পৌঁছুবার আগেই পুরুষ যোদ্ধারা শহীদ হন, কেউ নদীর জলে হারিয়ে যান। পাঁচ যুবতীসহ যুদ্ধযাত্রী এ কিশোরীর জীবনে ঘটে নানা অভিজ্ঞতা।

চৌদ্দ বছরের কিশোরীর ধবধবে সাদা জমিন যুদ্ধকালীন নয় মাসে রক্তরাঙা হয়ে উঠে। আর লাল জমিন কিশোরীর রক্তরাঙা অভিজ্ঞতার মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধোত্তর এক নারীর সংগ্রামী জীবনের নাট্যপ্রকাশ ‘লালজমিন’।

মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মোমেনা চৌধুরীর একক এ নাটকটি শূন্যন রেপার্টরি থিয়েটারের প্রথম প্রযোজিত নাটক। ইতোমধ্যেই নাটকটি পার করেছে তার ১৫০তম প্রদর্শনী। আর এবার রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের চার দিনব্যাপী নাট্যোৎসবে মঞ্চস্থ হলো নাটকটি।

শুক্রবার (১১ মে) সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ এ নাটকটি নিয়ে কথা হয় নাটকটির অভিনেত্রী মোমেনা চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ভুলে গেলে চলবে না। সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হতে হবে। এ নাটকটির মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে নারীদের অবস্থান বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

নির্দেশক সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, আমার নির্দেশিত নাটকটির ইতোমধ্যে ১৫০তম মঞ্চায়ন শেষ হয়েছে। এটা আমার জন্য বেশ আনন্দের। ২০১১ সালের ১৯ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটমণ্ডলে লালজমিন নাটকটি প্রথম প্রদর্শিত হয়। সে থেকেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ও বিদেশের মাটিতে নাটকটির নিয়মিত প্রদর্শনী হয়ে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...