রোজার কাজা ও কাফফারা আদায়ের নিয়ম কী?

অপার মহিমার মাস রমজান। আত্মশুদ্ধি-আত্মগঠনের এ মাসে মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তোষ অর্জনের জন্য ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। রমজান মাসকে সঠিকভাবে পালনে করণীয় ও বর্জনীয়সহ নানা বিষয়ে জানার থাকে মুসল্লিদের।

 

মো. শফিকুর রহমান, ধানমন্ডি, ঢাকা

প্রশ্ন: রোজার কাজা ও কাফফারা এবং তা আদায় করার নিয়ম কী?

 

উত্তর: রোজার কাজা ও কাফফারার নিয়ম: সাধারণত কাজা বলতে আমরা বুঝি বকেয়া। আর কাফফারা বলতে বুঝি জরিমানা। রমজানের রোজা অতিগুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণে তা ভঙ্গ করলে কখনও কাজা কিংবা কখনও কাফফারা এবং কখনও কখনও কাজা ও কাফফারা অর্থাৎ বকেয়া এবং জরিমানা উভয়টি আদায় করতে হয়।

 

** রোজার ফিদইয়া আদায়ের নিয়ম জানতে চাই?

 

আমরা জানি, কাজা হলো একটি রোজার পরিবর্তে একটি রোজা রাখা। আর কাফফারা হলো একটির পরিবর্তে ৬০টি রোজা রাখা। তবে এ ৬০টি হতে হবে লাগাতার, বিরামহীন। এর মধ্যে কোনো রোজা বাদ দেওয়া যাবে না। অবশ্য রোজার কাফফারার আরেকটি বিকল্প আছে। তা হচ্ছে- একটি রোজার পরিবর্তে ৬০ জন গরিব মানুষকে দুই বেলা খাওয়াতে হবে। ৬০ জন গরিব মানুষকে দু’বেলা খাবার খাওয়ালে একটি রোজার কাফফারা আদায় হবে।

 

মো. আসিফ, বাড্ডা, ঢাকা।

 

প্রশ্ন: যেসব কারণে শুধু কাজা আদায় করতে হয়?

 

উত্তর: যেসব কারণে রোজার শুধু কাজা আদায় করতে হয়, সেগুলো হচ্ছে-

০১. স্ত্রীকে চুম্বন বা স্পর্শ করার কারণে যদি বীর্যপাত হয়।

০২. ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে।

০৩. পাথরের কণা, লোহার

টুকরা, ফলের বিচি গিলে ফেললে।

০৪. ডুশ সাপোজিটর গ্রহণ করলে।

০৫. নাকে বা কানে ওষুধ দিলে (যদি তা পেটে পৌঁছে)।

০৬. মাথার ক্ষতস্থানে ওষুধ দেওয়ার পর তা যদি মস্তিষ্কে বা পেটে পৌঁছে।

০৭. যোনিপথ ব্যতীত অন্য কোনোভাবে সহবাস করার ফলে বীর্য নির্গত হলে।

০৮. স্ত্রী লোকের যোনিপথে ওষুধ দিলে।

উল্লেখ্য, রমজান মাস ছাড়া অন্য সময়ে রোজা ভঙের কোনো কাফফারা নেই, শুধু কাজা আছে।

 

সিদ্দিক মিয়া, বাবুগঞ্জ,বরিশাল।

 

প্রশ্ন: কী কী কারণে কাজা ও কাফফারা উভয়ই আদায় করতে হয় (অর্থাৎ একটির পরিবর্তে ১+৬০= ৬১টি রোজা রাখতে হবে)?

 

উত্তর:

০১. রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে।

০২. রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাস করলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...