ইরাকের হিজাবি কমিউনিস্ট

ইসলামিক আরব ঐতিহ্যময় তার নামটি চমৎকার। সঙ্গে বাবার নাম মিলিয়ে রাখা। সুহাদ আল খাতিব এখন ইরাকের আলোচিত রাজনৈতিক চরিত্র।

সব সময় পূর্ণ হিজাব পরিহিতা সুহাদ আল খাতিব কমিউনিস্ট পার্টির নেত্রী এবং সদ্য নির্বাচিত এমপি। সম্ভবত মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হবেন তিনি। তার সম্পর্কে এমনই অভিমত মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞদের।

ইরাকে কমিউনিস্টরা নির্বাচনে জিতেছে দেখে বিশ্বের নানা দেশের সমাজতন্ত্র্রীা দারুণ উল্লসিত। যাঁরা অতি উদার সমাজতান্ত্রিক রাজনীতি করেন বা একদা করতেন, তাঁরাও ‘হিজাবি সমাজতন্ত্রী’ সুহাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কেউ কেউ অবশ্য তার সম্পর্কে এমন মূল্যায়নও করছেন যে, তার হিজাব ‘আরব্য সংস্কৃতির চিহ্ন, অন্তরে তো সাম্যবাদ!’

ইরাকে সুহাদের মতো হিজাবি সমাজতন্ত্রী নেতৃত্বের বিকাশ একটি নতুন বাম-অবয়ব বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে। ক্ষমতায় আসতে ধর্মের সাথে ঐক্য ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের একটি বিকল্প ধারণাও পাওয়া গেলো ইরাকের কমিউনিস্টদের কাছ থেকে।

ইরাকে সমাজতন্ত্রী দল বিপ্লব করে সমাজতন্ত্র কায়েম করেনি, করবেও না। এক সময়ের কট্টরপন্থী জনপ্রিয় আধ্যাত্মিক গুরু মুক্তাদা আল সদরের সংগে জোট বেঁধে তার জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে, তাঁর আশীর্বাদ নিয়ে পুরোপুরি মধ্যপন্থি পুঁজিবাদী তরিকায় নেমে সমাজতান্ত্রিক দল ক্ষমতায় এসেছে। ফলে ‘শ্রেণীহীন সমাজ কায়েম’ ছাড়াও ধর্মীয় এজেন্ডা তাদের রয়েছে।

মুক্তাদা আল সদর নিজেও তরিকা বদল করে মধ্যপন্থি ‘জাতীয়তাবাদী’ বনেছেন অনেকটা নাসের, সুকর্ণ, সুহার্তো আদলে। ‘জাতীয়তাবাদ’ একটি সরাসরি সমাজতন্ত্রবিরোধী রাষ্ট্রদর্শন হলেও ইরাকে ধর্মীয় ও বামপন্থী গোষ্ঠী তাকে সাদরে গ্রহণ করেছে। ইরাকের মৌলবাদী, আধ্যাত্মকবাদী, সাম্যবাদী ইত্যাদি সকল রাজনৈতিক মতের দলগুলোই আসলে ধর্ম ও জাতীয়তাবাদী আলখাল্লা গায়ে চাপিয়ে মাঠে নেমেছে। ধর্মীয় সংস্কৃতি আর উগ্র জাতীয়তাবাদের স্লোগান দিয়ে আন্তর্জাতিকতাবাদী কমিউনিস্টরা পর্যন্ত ভোটের মাঠ দখলে সক্ষম হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরাকে ‘জার্মান জাতীয়তাবাদ’-এর মত সদর-এর ‘ইরাকি জাতীয়তাবাদ’ দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তাতে ভর করে সমাজতন্ত্রীদের ক্ষমতায় আসাও সম্ভব হয়েছে। কট্টর সমাজতন্ত্রের বলয় ভেঙে ধর্ম ও জাতীয়তাবাদের হাত ধরে ইরাকের ক্ষমতায় কমিউনিস্টদের আগমন তাই নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। ইরাকের ‘হিজাবি কমিউনিজম’ বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশে কি ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...