গোয়ালন্দে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার!

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোমবার (৪ মে) গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগের সামনে বিভিন্ন রোগীর ভিড় লেগে আছে। সেখানে উপস্থিত দেবগ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন শেখ। তিনি জানান, তাঁর ১০ বছরের ছেলে রাকিবুল বেশ কিছুদিন ধরে জ্বর ও কাশিতে ভুগছে। এলাকার এক ওষুধের দোকানি নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করেছেন। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। তাই ছেলেকে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসেছেন। পরীক্ষা করে দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে বহুবিধ অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে এখন কোনো ওষুধই আর শিশুটির শরীরে কাজ করছে না। অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক তৈরি হওয়াতে রোগাক্রান্ত শিশুর সুস্থ হয়ে ওঠা কিছুটা দুরূহ হয়ে পড়েছে। তবে রাজবাড়ীতে কোনো ড্রাগসুপার না থাকায় বিষয়টি কারো নজরে আসছে না।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, পৌর শহর থেকে শুরু করে উজানচর, দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম ও ছোটভাকলা ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারে অনুমোদনহীন ছোট-বড় দুই শতাধিক ওষুধের দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকানের দোকানি ‘ডাক্তার’ নামধারী হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ চিকিৎসার জন্য তাদের কাছে যায়। সেখানে রোগীর লক্ষণ যাই হোক, দামি অ্যান্টিবায়োটিক গছিয়ে দেওয়াই তাদের কাজ। শুধু অ্যান্টিবায়োটিক নয়, স্টেরয়েড, উচ্চমানের পেইনকিলারসহ অনেক ওষুধ আছে, যা প্রেসক্রাইব করার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও চিন্তাভাবনা করেন। অথচ ওষুধের দোকানি বিভিন্ন রোগীর শরীরে সংবেদনশীল এসব ওষুধ অহরহ ব্যবহার করছে। ফলে দিন দিন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে এলাকার সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে শিশু রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকা ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ক্ষমতাহীনতার সুযোগে অবাধে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবসা চলছে। এতে ওই সব রোগীর বিশেষ করে শিশুস্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।’

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. রহিম বক্স বলেন, ‘সব ওষুধের দোকানির নামে ড্রাগ লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া ওষুধ বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...