সাইকেলে পদ্মা পাড়ি দিলেন ফরিদপুরের সাইফুল

নিজের  তৈরি সাইকেল নিয়ে পদ্মা নদী পাড়ি দেয়ার বহু দিনের স্বপ্ন অবশেষে পুরণ করেছেন ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামে সাইফুল ইসলাম।

চলতি বছরের ২৮ মে বেলা ১১টার দিকে সাইফুল ইসলাম সদর উপজেলার ধলা মোড় এলাকায় পদ্মা নদীর ২০০ মিটার  পাড়ি দিয়েছেন সাইকেল নিয়ে। এতে সময় ব্যয় হয়েছে প্রায় ঘণ্টা। সাইফুলের নদী পাড়ি দেওয়ার দৃশ্য দেখতে নদীর পাড়ে অনেক মানুষ ভিড় করেন। এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে গিয়ে সাইফুল সেই সাইকেল চালিয়ে সড়ক পথে বাড়ি ফিরেন।

জানা গেছে, সাইফুল বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সৌর শক্তি আলোর সালথা উপজেলা শাখার ব্যবস্থাপক। দীর্ঘ ছয় মাস চেষ্টা চালিয়ে সৌরবিদ্যুৎ চালিত এ সাইকেলটি তৈরি করেছেন। এটি জল ও স্থলে চলতে পারে। তবে তার কাঙ্খিত স্বপ্ন পুরোপুরি পূরণ করতে আরও আধুনিকায়ন করতে চান সাইকেলটি। স্বপ্ন দেখেন এমন একটি সাইকেল তৈরি করবেন, যা দিয়ে আকাশে ওড়া যাবে।

সাইফুলের তৈরি সাইকেলের হ্যান্ডেল ও ক্যারিয়ারে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল। দুই চাকার দুই পাশে চারটি গোলাকার টিউব। টিউবের সাহায্যে সাইকেলটি পানিতে ভেসে থাকে। সাইকেল চালাতে প্যাডেল ব্যবহার করতে হয় না। কারণ, এটি সৌরবিদ্যুতে চলে। শুধু পানিতে নয় স্থলপথেও সাইকেলটি চালানো যায়। তখন টিউব চারটি চাকার দুই পাশে আটকে রাখা হয়।

এমন সাইকেল আবিষ্কারের বিষয়ে কথা হয় সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করেন। পরের বছর ‘শক্তি সৌর আলো’তে যোগ দেন। ছোট বেলা থেকেই বিভিন্ন যন্ত্রের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় পাটখড়ি, কাঁচ ও কাগজ দিয়ে তিন হাত লম্বা ও এক হাত চওড়া একটি বাস তৈরি করেছিলাম।

সাইফুল ইসলাম বলেন, সাইকেলটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকার মতো। সময় লেগেছে ছয় মাস। বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ চালিত ধান কাটার যন্ত্র ও রিকশা চালানোর যন্ত্র আবিষ্কারের চেষ্টা করছি। পাশাপাশি ১৫ জন ধারণক্ষমতার সৌরচালিত স্পিডবোট বানানোর চেষ্টা করছি। যা জলের পাশাপাশি ডাঙায়ও চলবে। এমন একটি সাইকেল বানাতে চাই, যা দিয়ে আকাশে ওড়া যাবে।

এছাড়া এমন এক জোড়া জুতা তৈরি করতে চাই, যা দিয়ে অনায়াসে পানির ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া যাবে। সাইফুল বলেন, স্বপ্ন পূরণের পথে বাধাও অনেক। এ কাজে অনেক টাকার প্রয়োজন। আমার সামর্থ্য তেমন নেই। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন।

তবে আমার স্বপ্ন পূরণ হবে কি না জানি না। স্থানীয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হাসিবুল হাসান বলেন, সাইফুলের উদ্ভাবনটি বেশ সাড়া ফেলেছে। তবে বাহনটিকে আরও জনপ্রিয় করতে এটির ওজন আরও কমিয়ে আনতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...