রাজবাড়ীতে পটলের বাম্পার ফলন

রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের কৃষকদের অর্থকরী ফসল হয়ে উঠেছে কাজলা পটল। অনেক কৃষকেরই ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে এ সবজি চাষ করে।

সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এ এলাকায় প্রথম কাজলা পটল চাষ করেন ছলেমান মোল্লা। তিনি জানান, সাত-আট বছর আগে মেহগনি বাগান কেটে ৫০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেন পটলের আবাদ। প্রথম বছরই পান ব্যাপক সফলতা। এর পর থেকেই নিয়মিত পটল চাষ করে আসছেন তিনি।

ছলেমান মোল্লার হিসাবে, ৫০ শতাংশ জমিতে পটল আবাদে খরচ হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এখান থেকেই সব খরচ বাদ দিয়ে বছর শেষে ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভ করা যায়। গত চৈত্র থেকে আষাঢ় পর্যন্ত কেজিপ্রতি ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা পাইকারি দরে পটল বিক্রি করছেন তিনি।

ছলেমান মোল্লার সাফল্য দেখে একই এলাকার কৃষক জিয়াউর রহমান, আমির উদ্দিন, সালামত মোল্লা ও আলমগীর পটল চাষ শুরু করেছেন।

ছলেমান মোল্লাকে আদর্শ মেনে স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, ছলেমান মোল্লা সার্বক্ষণিক তার পটল ক্ষেতে কাজ করেন। সময়মতো প্রয়োজনীয় যত নেন। এ কারণে এলাকার অন্য পটল চাষীদের চেয়ে ভালো ফলন পান তিনি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এবং বাজার ঠিক থাকলে এ অঞ্চলে পটোল চাষ আরো বাড়বে বলে তাদের আশা।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বাহাউদ্দিন শেখ  জানান, রাজবাড়ী সদর উপজেলায় এ বছর ২১০ হেক্টর জমিতে পটল চাষ হয়েছে। সেক্স ফেরোমন ট্র্যাপ (কীটনাশক ফাঁদ) ব্যবহার করে নিরাপদ সবজি উৎপাদন কৃষকদের মাঝে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। এতে কীটনাশকের ব্যবহার প্রায় অর্ধেক কমেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সবসময় আধুনিক পদ্ধতিতে পটল উৎপাদন এবং পোকামাকড় ও রোগ দমনে আইপিএম পদ্ধতিসহ বিভিন্ন কার্যকর পরামর্শ দিয়ে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...