ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে পরিকল্পনা গ্রহন করতে পারবেন কৃষক

কৃষি-সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য তথ্য কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু, নদ-নদীর পানির অবস্থা, দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা এবং কৃষি আবহাওয়া সম্পর্কে আগাম তথ্য কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতেই এ প্রকল্প।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকরা আগেভাগেই যথাযথ পরিকল্পনা নিতে পারবেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-২১ সাল পর্যন্ত ছয় বছর মেয়াদি ‘কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ’ শীর্ষক এ প্রকল্প আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রায় ৯৮৭ কোটি টাকার প্রকল্পটির বেশির ভাগ অর্থায়ন করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পাউবো। আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষে বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে ১০৬ কোটি টাকা এবং প্রকল্পে কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা বাবদ ১৩ কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার। ৬৪টি জেলার ৪৮৭টি উপজেলার ৪ হাজার ৫১টি ইউনিয়নে এ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। সেবা নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বাছাইকৃত ৩০ হাজার কৃষক প্রতিনিধিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলেও জানা গেছে।

প্রকল্পটি সম্পর্কে জানা যায়, প্রকল্পে আবার তিনটি ধাপ থাকছে। একটি হলো কৃষি আবহাওয়া-বিষয়ক একটি ওয়েব পোর্টাল। এর জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে অবকাঠামো তৈরি করা হবে। যেখানে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পাউবোর স্থানীয় নদ-নদীর তথ্য থাকবে। এজন্য ৪ হাজার ৫১টি ইউনিয়নে উচ্চক্ষমতার সার্ভার, কম্পিউটার ও এলইডি ডিসপ্লে, ট্যাব, বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্র, আবহাওয়া বোর্ড থাকবে, যা অপটিক্যাল লাইন সফটওয়্যারের মাধ্যমে ওয়েব পোর্টালে যুক্ত থাকবে। এছাড়া উপজেলাগুলোর কৃষি আবহাওয়া-সংক্রান্ত ডাটাবেজ তৈরি, ঝুঁকি মানচিত্র তৈরি এবং ইউনিয়ন ও উপজেলার ভূমির তথ্য ডিজিটাল করা হবে, যা পরবর্তীতে জিআইএস ও রিমোট সেন্সিংয়ের কাজে ব্যবহার হবে। এতে করে ওই ইউনিয়নের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে কৃষককে করণীয় সম্পর্কে আগেভাগেই দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেয়া সম্ভব হবে।

দ্বিতীয় ধাপে থাকছে— প্রশিক্ষণ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, মনিটরিং ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া। যেটা দেশব্যাপী চলমান। বিভাগ থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এখানে ব্রির মাধ্যমে বিভিন্ন শস্য আবাদের সিমুলেশন মডেল তৈরি করা হবে।

প্রকল্পের শেষ ধাপে দুর্যোগ আসন্নকালীন কৃষককে কী করতে হবে, সে সম্পর্কে আগাম তথ্য পৌঁছে দেয়া হবে। এর জন্য কৃষকদের বর্তমান অবস্থা এবং চাহিদার একটি জরিপ করা হবে। ৪ হাজার ৫১টি ইউনিয়ন পরিষদে বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন এবং প্রতিদিনের আবহাওয়ার একটি বোর্ড স্থাপন করা হবে। ৪৮৭টি উপজেলায় কৃষি আবহাওয়া-বিষয়ক কিয়স্ক স্থাপন করা হবে। যেখানে কৃষি-বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য থাকবে। ৬৪টি জেলায় এগ্রোমেট সার্ভিস রুম প্রতিষ্ঠা করা হবে। কৃষি ও জলবায়ু-বিষয়ক তথ্য পাঠানোর জন্য ৬ হাজার ৬৬৪টি ট্যাব পাবেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৩০ হাজার কৃষক প্রতিনিধিকে আবহাওয়া-বিষয়ক তথ্য প্রদান ও কৃষকদের সমস্যাগুলো গ্রহণ করা হবে। পরে সেটির সমাধান কৃষক প্রতিনিধির মাধ্যমে কৃষককে জানিয়ে দেয়া হবে। কৃষকরা ঘরে বসেই এসব সেবা পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...