রাজবাড়ীতে পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনিশ্চয়তা

দেশে পাট উৎপাদনের ৭ শতাংশই আসে রাজবাড়ী থেকে। কিন্তু এবার আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রাই অর্জিত হয়নি। আশানুরূপ ফলন না পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। সেসঙ্গে বাজারদরে অনিশ্চয়তা তো রয়েছেই।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর এ জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ পাটের আবাদ করা হয়। চলতি বছর পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৯ হাজার ৬০০ হেক্টর। কিন্তু চাষ হয়েছে ৪৭ হাজার ৭৮০ হেক্টরে জমিতে। এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, অসময়ে বৃষ্টি ও তাপমাত্রার অত্যধিক ওঠানামার কারণে বীজের অঙ্কুরোদ্গমের হার কমে যাওয়া।

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়ন ও মাঝবাড়ি ইউনিয়ন, রাজবাড়ী সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় এবার পাটের আবাদ কম। পাট কাটার সময় হয়ে গেলেও অনেক ক্ষেতে এখনো পাটগাছ খুব ছোট। অধিকাংশ ক্ষেতের পাটের মান মাঝারি বা নিম্ন। অনেকেই পাট নষ্ট করে ধান রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। কেউবা নষ্ট পাটক্ষেত পতিত রেখে দিয়েছেন।

মদাপুর ইউনিয়নের কৃষক খন্দকার হারুন জানান, এবার বেশির ভাগ জমিতে আগাম পাটের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে অর্ধেক বীজই গজায়নি। এরপর চারা কিছুটা বড় হওয়ার পর অতিবৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে গোড়া পচে গেছে। পরে পাটসহ জমি চাষ করে ধান রোপণ করেছেন। এবার পাট চাষ করতে গিয়ে তার ২০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়ে গেছে।

কালুখালী উপজেলার মাঝবাড়ি ইউনিয়নের দয়ারাম গ্রামের বাসিন্দা আসাদ হোসাইন বলেন, আমাদের অঞ্চল পাট ও পেঁয়াজ চাষের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু এবার পাটচাষীদের মাথায় হাত। রোদ ও বৃষ্টির ভারসাম্য ছিল না। এছাড়া ঝড়ে চারা মাটিয়ে শুয়ে গেছে। এগুলো আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

অতিবৃষ্টির কারণে বীজ না গজানোর কারণে দ্বিতীয়বার বীজ বপন করেছিলেন সদর উপজেলার চন্দনী গ্রামের বাসিন্দা কার্ত্তিক চন্দ্র দাস। কিন্তু বৃষ্টির কারণে আগাছা পরিষ্কার করতে পারেননি। আর আবহাওয়া আর্দ্র থাকায় পোকা-মাকড়ের আক্রমণও বেশি হয়েছে। পানি জমে থাকায় পাটের গোড়ায় ধরেছে পচন। ফলে এবার নিশ্চিত লোকসান।

জেলা কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুকুমার সরকার বলেন, এবার পাটের আবাদ ভালো হয়নি। অনেক কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সরকারের উচিত, শস্যবীমা চালু করা এবং ভর্তুকি দেয়া।

তবে রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফজলুর রহমানের দাবি, পাটের ফলন খুব একটা খারাপ হয়নি। যদিও নিচু জমিতে আশানুরূপ ফলন হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি। আর এবার ধানের দাম বেশি পাওয়ায় অনেকেই ধান চাষে আগ্রহী হয়েছেন। ফলে পাট আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম হয়েছে বলে মনে করেন এ কৃষি কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...