গোয়ালন্দে কলেজছাত্র রুমান হত্যার একমাস পার হলেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে কলেজছাত্র রুমান হত্যাকাণ্ডের এক মাস পার হলেও ঘাতকদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে মামলাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন নিহতের পরিবারসহ এলাকাবাসী। পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর আন্ধারমানিক গ্রামের আবুল কালাম মহুরীর ছেলে রুমান।

তিনি ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। গোয়ালন্দের তেনাপচা গ্রামের ইউনুছ আলীর বখাটে ছেলে রাসেল বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় বরাট ভাকলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে নানাভাবে যৌন হয়রানি করে আসছিল। বিষয়টি জানার পর রুমান তাঁর কয়েকজন বন্ধু মিলে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করেন। এতে রুমানের সঙ্গে রাসেলের শত্রুতা তৈরি হয়।

ঘটনার দিন গত ২৩ জুন বিকেলে রাসেল ফোন করে রুমানসহ তাঁর অপর তিন বন্ধু সুমন বেপারী, ইমন গাজী ও আকাশ খানকে স্থানীয় কাটাখালী বাজারে ডেকে নেয়। পরে রাসেল ও তার সঙ্গীরা রুমানসহ তাঁর তিন বন্ধুকে বেদম মারধর করে। এ সময় রাসেল কাঠের বাটাম দিয়ে মাথায় আঘাত করলে সঙ্গে সঙ্গে রুমান মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে লোকজন এগিয়ে এলে দ্রুত পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে আহত তিন বন্ধুসহ রুমানকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমানকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত রুমানের বাবা আবুল কালাম মহুরী গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

এদিকে রুমান হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে গত ২৮ জুন গোয়ালন্দ-রাজবাড়ী আঞ্চলিক সড়কের কাটাখালী বাজার এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসী। এ সময় নিহত রুমানের বাবা আবুল কালাম মহুরী বলেন, ‘আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমি থানায় হত্যা মামলা করেছি। কিন্তু ঘটনার এক মাস পার হলেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ে পড়েছি।’

গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অধিক গুরুত্ব দিয়ে রুমান হত্যা মামলার তদন্তকাজ করছে সিআইডি। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...