অর্থের অভাবে রাজবাড়ী পৌর শিশু হাসপাতাল বন্ধ !

রাজবাড়ী পৌর শিশু হাসপাতালটি ২৩ বছর ধরে ধুঁকতে ধুঁকতে অবশেষে বন্ধ হয়ে গেছে। হাসপাতালটিতে বর্তমানে সূর্যের হাসি ক্লিনিকের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতালের অভাবে নবজাতকসহ শিশু রোগীদের চিকিৎসা করাতে খুবই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে অভিভাবকদের। বিশেষ করে জটিল রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে গত এক মাসে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে ৩৯ শিশুকে ফরিদপুরসহ বিভিন্ন শিশু হাসপাতালে পাঠানো হয়। পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আর্থিক দুরবস্থার কারণে এই মুহূর্তে হাসপাতালটি চালু করা যাচ্ছে না।

রাজবাড়ী পৌরসভা সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালের দিকে রাজবাড়ী পৌরসভার উদ্যোগে শহরের নতুনবাজার এলাকায় পৌর শিশু হাসপাতালটি স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর সেখানে একজন চিকিৎসক রোগী দেখে শুধু ব্যবস্থাপত্র দিতেন। এভাবেই চলেছে ২২ বছর। সর্বশেষ ওই হাসপাতালের দায়িত্বে ছিলেন ডা. আবদুর রশিদ। ২০১৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

ডা. আবদুর রশিদ জানান, তিনি ১৯৯৮ সালে পৌর শিশু হাসপাতালে যোগ দেন। ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে রোগী দেখা হতো। রোগী দেখে শুধু ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল কার্যক্রম। তা সত্ত্বেও প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন রোগী হতো।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চার কক্ষবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালটির একটি কক্ষে পরিচালিত হচ্ছে সূর্যের হাসি ক্লিনিক। বাকি তিনটি কক্ষের দরজা খোলা রয়েছে। একটি কক্ষ ও বারান্দাজুড়ে রাখা হয়েছে হাসপাতালের পাশের নির্মাণাধীন একটি বিল্ডিংয়ের রড-সিমেন্ট। বাকি দুটি কক্ষ জরাজীর্ণ। আর হাসপাতাল বিল্ডিংয়ের সামনে ইটের স্তূপ।

এদিকে রাজবাড়ীতে পূর্ণাঙ্গ একটি শিশু হাসপাতাল না থাকায় প্রতিনিয়তই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে জন্মের পরপর নবজাতক যখন নিঃশ্বাস নিতে পারে না তখন জরুিির চকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। এসব ক্ষেত্রে অবস্থাপন্ন মানুষরা হয়তো তাৎক্ষণিক ভালো কোনো হাসপাতালে যেতে পারে। কিন্তু দরিদ্র রোগীরা পড়ে মহাবিপাকে।

পাঁচটি উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজবাড়ী জেলার জনসংখ্যা প্রায় ১১ লাখ। এখনও পর্যন্ত জেলার চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসাস্থল রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল। রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, এখানে শিশুদের জন্য একজন চিকিৎসক রয়েছেন। আর শয্যা রয়েছে নয়টি। যেখানে মাসে গড়ে তিনশ’ শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। এসব শিশু বেশিরভাগই জ্বর, খিঁচুনি, ইনফেকশন, নিউমোনিয়া, অ্যাজমাসহ নানা রোগে আক্রান্ত থাকে। প্রয়োজনীয় লোকবল এবং চিকিৎসার সরঞ্জাম না থাকায় শুধু জুলাই মাসে ৩৯ জন শিশু রোগীকে রেফার্ড করা হয়েছে বিভিন্ন হাসপাতালে।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. গোলাম ফারুক বলেন, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে শিশুদের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা নেই। যে কারণে ঝুঁকিপূর্ণ রোগে আক্রান্ত শিশুদের রেফার্ড করতে হয়। অনেক সময় জন্মের পর শিশুরা নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট পায়। এসব ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়া দরকার। যখন আমাদের হাতে কোনো উপায় থাকে না তখন রেফার্ড করতে বাধ্য হই। এ ছাড়া বেশি দিনের জ্বর, ভেরিসোভিয়া নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদেরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যথেষ্ট উপাদান নেই হাসপাতালে।

রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী বলেন, পৌর শিশু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আবদুর রশিদ স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার কারণে কার্যক্রম বন্ধ আছে। এ ছাড়া পৌরসভার আর্থিক সংকটের কারণে আপাতত বন্ধ রাখতে হয়েছে। আর্থিক সংকট দূর হলে এবং নতুন একজন ডাক্তার নিয়োগ হলে আবার শিশু হাসপাতালটি চালু করতে পারব বলে আশা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...