রাজবাড়ীতে ১৪দিনে ৪নারীকে গলা কেটে হত্যা !

রাজবাড়ীতে ১৪ দিনের ব্যবধানে চার নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন শিশু। প্রতিটি ঘটনাতেই রাতে ঘরে ঢুকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। রাজবাড়ী সদর উপজেলায় বারবাকপুর, পশ্চিম মূলঘর ও আটদাপুনিয়া গ্রামে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে।

এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সদর উপজেলার স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ এর মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

সবশেষ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে কৃহস্পতিবার রাতে আলীপুর ইউনিয়নের বারবাকপুর গ্রামে। নিহত নারী হাজিরা বেগম (৫২)। তিনি ছেলের বউ ও নাতির সঙ্গে এক খাটে শুয়ে ছিলেন। তাঁকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। পাশে শুয়ে থাকা ছেলের বউ স্বপ্নার দুই হাত ও কাঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।

এর আগে ৩ আগস্ট একই এলাকায় প্রায় পাঁচ শ গজ দূরে মূলঘর ইউনিয়নের পশ্চিম মূলঘর গ্রামে দাদি ও নাতনিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহত দুজন হলেন শাহিদা বেগম (৫০) ও লামিয়া আক্তার (৭)। শাহিদার স্বামীর নাম শাজাহান মিয়া। হত্যার আগে শাহিদা বেগমকে ধর্ষণ করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শাহিদার ছেলে শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

দাদি ও নাতনিকে হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই ৮ আগস্ট বানিবহ ইউনিয়নের আটদাপুনিয়া গ্রামে আদুরী বেগমকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। আদুরীর স্বামী মিজানুর রহমান পেশায় রড মিস্ত্রি। তিনি কক্সবাজারের উখিয়ায় কাজ করতেন। আদুরীর বাবার বাড়ি খুলনা জেলার রূপসায়। মোবাইলের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে আদুরী ও মিজানুরের বিয়ে হয়।

ঘটনার পর মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল্লাহ আল তায়াবীর বলেন, ম্যাগনেট পাথরকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে আদুরীর দেবরসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এক আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

আবদুল্লাহ আল তায়াবীর বলেন, ‘বানিবহের গৃহবধূ হত্যার ধরন ভিন্ন হলেও পশ্চিম মূলঘরের দাদি, নাতনি ও বারবাকপুরের হাজিরা বেগম হত্যার ধরন একই রকম। এই দুই হত্যাকাণ্ডে ঘটনাস্থলও কাছাকাছি। আমরা বিভিন্নভাবে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করছি।’

আলীপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত সদস্য মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘ঘরে ঢুকে পরপর গলা কেটে হত্যাকাণ্ড হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ রাতে ঘুমাতে পারছে না। সবাই ভয়ের মধ্যে আছে। সবার মনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমরা এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাই।’

ডা. আবুল হোসেন কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নারীনেত্রী শামীমা আক্তার বলেন, ‘এ ধরনের হত্যাকাণ্ড মধ্যযুগের বর্বরতা। যেকোনো হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটে। সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সমাজে অস্থিরতা তৈরি হবে। এই হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সুশাসন ও ন্যায়বিচার দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করে।’

রাজবাড়ী উপজেলার পুলিশ সুপার (এসপি) আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, আগের দুটি মামলায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বানিবহের গৃহবধূকে হত্যার রহস্য আমরা উদ্‌ঘাটন করতে পেরেছি। এই মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে জড়িত সব আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে জোড়া খুনের (দাদি ও নাতনি) রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা এসব হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...