রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাধ ভাঙনের ঝুুঁকিতে

রাজবাড়ীতে দুই সপ্তাহ ধরেই ভাঙছে পদ্মার তীর। সদর উপজেলার গোদার বাজারে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে গত  রোববার রাত থেকে। এ সময় পদ্মার তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণিতে নিমিষে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় শহররক্ষা বাঁধের স্থায়ী পাইলিংয়ের অন্তত ২০০ মিটার এলাকা। একই সঙ্গে বিলীন হয় অন্তত ৩০টি বসতবাড়ি। এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে শতাধিক বসতবাড়ি, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

রাজবাড়ীর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয়ের তথ্যমতে, ৮৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সদর উপজেলার গোদার বাজার থেকে বোতলা স্লুইস গেট পর্যন্ত পদ্মার তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। রাজবাড়ী শহররক্ষা বাঁধ (ফেজ-১) প্রকল্পের আওতায় ২ দশমিক ২৪ কিলোমিটার এলাকায় সম্পন্ন করা হয় পদ্মার তীর সংরক্ষণের কাজ। গত দুই সপ্তাহে এ আড়াই কিলোমিটারে পাঁচবার ভাঙন দেখা দেয়। এ অবস্থায় শহররক্ষা বাঁধটি মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। এটি রক্ষায় আপাতত জরুরি ভিত্তিতে বালির বস্তা ফেলা হচ্ছে। দুই সপ্তাহে ওই পাঁচ এলাকায় ১০ হাজার বালির বস্তা ফেলা হয়েছে বলে জানায় পাউবো কর্তৃপক্ষ।

গোদার বাজার এলাকায় সরজমিন দেখা যায়, ভাঙন আতঙ্কে দিশেহারা স্থানীয়রা। সবাই যার যার ঘরের আসবাবপত্র সরাতে ব্যস্ত। এ সময় কথা হলে স্থানীয় বাসিন্দা মোমেনা বেগম জানান, চোখের সামনেই তার বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দুই সন্তান নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন শহররক্ষা বাঁধে। এখন বাঁধটিও ঝুঁকির মুখে। এটি ভেঙে গেলে তাদের আশ্রয়ের আর জায়গা থাকবে না।

একই এলাকার বাসিন্দা জয়নাল মণ্ডল জানান, রোববার রাত ১টা সময় বিকট শব্দে ভাঙন শুরু হয়। ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার ঘরের পেছনের বাঁশঝাড়টি আর নেই। নদীর অবস্থান মূল ঘর থেকে মাত্র ১০ হাত দূরে। ওই অবস্থায়ই ঘর ভেঙে জিনিসপত্র নিয়ে শহররক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে, পাউবো কর্মকর্তাদের বারবার বলা সত্ত্বেও তারা কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না। গতকাল সকাল থেকে দুটি ট্রলারে বালি এনে বস্তায় ভরছে। কিন্তু যেখানে ভাঙন, সেখানে বস্তা ফেলছে না। তাছাড়া তাদের কাজের গতিও খুব ধীর। অথচ ভাঙন আতঙ্কে তাদের ঘুম হচ্ছে না। ঘরবাড়ি, গাছপালা সব ভেঙে যাচ্ছে। যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। এভাবে চলতে থাকলে শত শত বসতবাড়িসহ বিদ্যালয়, মসজিদ নদীগর্ভে চলে যাবে। এমনকি রাজবাড়ী শহররক্ষা বাঁধও রক্ষা পাবে না।

স্থানীয় ধুঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দোলনা সুলতানা জানান, ভাঙনের কারণে বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আপাতত পাশের গোদার বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদ্যালয়ের আসবাব রাখা হয়েছে।

ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে কথা হলে পাউবো রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার বলেন, রাজবাড়ীর নদীপথের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে ২৩ কিলোমিটার পাউবোর আওতাভুক্ত। এর মধ্যে ১৯টি পয়েন্টে ভাঙন চলছে। গত দুই সপ্তাহে রাজবাড়ী সদর, গোয়ালন্দ ও কালুখালী উপজেলায় অন্তত পাঁচ হাজার বিঘা ফসলি জমি ও অসংখ্য বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে শহররক্ষা বাঁধের গোদার বাজার অংশ। এ নিয়ে আমরা নিজেরাও চিন্তিত। আপাতত বালির বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...