স্ত্রী-সন্তানকে আটকে রেখে মারধর

রাজবাড়ীতে যৌতুকের মামলা তুলে না নেওয়ায় কৌশলে স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে আটকে রেখে এক স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার সকালে আদালতের নির্দেশে রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা করেছেন নির্যাতনের শিকার সায়মা।

জানা গেছে, ২০১২ সালের ৭ এপ্রিল জেলা শহরের শ্রীপুর গ্রামের আব্দুল ওহাব মোল্লার মেয়ে সায়মা আক্তারের সঙ্গে কালুখালী উপজেলার শমশের আলী জোয়াদ্দারের ছেলে ইকবাল ফারুকের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে ফারিয়া (২) নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য সায়মাকে নির্যাতন শুরু করেন ইকবাল। একপর্যায়ে সায়মা আদালতে একটি মামলা করেন। পরে ইকবাল আর নির্যাতন করবে না মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সায়মাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু এর কয়েক দিন পর ফের স্ত্রীর ওপর নির্যাতন শুরু করেন ইকবাল। এ কারণে তিনি বাবার বাড়ি চলে গিয়ে ফের আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেন।

পরে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে ইকবাল আবারও কথা দেন তিনি আর স্ত্রীকে নির্যাতন করবেন না। পরে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে মোটরসাইকেলে সন্তানসহ স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন ইকবাল। কিন্তু পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে তাঁদের নিজ বাড়িতে না নিয়ে অন্য একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে আটকে রেখে যৌতুকের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য সায়মাকে চাপ দেন।

একই সঙ্গে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করার জন্য চেষ্টা চালান ইকবাল। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে সায়মাকে মৃত ভেবে ঘরের মধ্যে ফেলে রেখে চলে যায় ইকবাল ও তাঁর সহযোগীরা। পরে সায়মার জ্ঞান ফিরে এলে মুঠোফোনে বিষয়টি তাঁর বাবাকে জানান। খবর পেয়ে তাঁর বাবা কালুখালী থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাঁকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করেন। ওই হাসপাতালে চার দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হলে আদালতে স্বামীসহ তিনজনের নামে একটি মামলা করেন সায়মা।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাজবাড়ী থানার এসআই মনিরুল মিয়া জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...