রাজবাড়ীতে ২০ বসতভিটা বিলীন ঝুঁকিতে আরো কয়েকশ

পদ্মায় পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির গড়াই নদীতে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। এরই মধ্যে গত মঙ্গল ও বুধবার দুদিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ২০টি বসতভিটা ও অন্তত ৫০ বিঘা ফসলি জমি। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরো কয়েকশ বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

নারুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সালাম মাস্টার জানান, এ ইউনিয়নের মরাবিলা, কোনাগ্রাম, জামসাপুর, গয়াসপুর, নারুয়া, সোনাকান্দর ও বাঙ্গরদাহ এলাকায় গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধি ও হ্রাসের সময় ভাঙন দেখা দেয়। চলতি বছরও বেড়িবাঁধসহ ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙন দেখা দিয়েছে গয়াসপুর ও নারুয়া গ্রামের আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। এ বছর ভাঙন প্রতিরোধে নারুয়া খেয়াঘাট এলাকায় শুধু জিও ব্যাগ ফেলা হয়। কিন্তু ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

গতকাল উপজেলার গয়াসপুর-নারুয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গড়াইয়ের প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয়রা। কেটে নিচ্ছেন গাছপালাও। এ সময় কথা হলে তারা জানান, চলতি বছরের পানি বৃদ্ধির সময়ও গড়াই নদীতে ভাঙন দেখা দেয়। তবে তা সহনীয় পর্যায়ে ছিল। কিন্তু পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে যে ভাঙন শুরু হয়েছে, তা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আমির হোসেন জানান, গত মঙ্গলবার সকালে বাড়ি ও ফসলি জমিজুড়ে ফাটল দেখা দেয়। ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে এ এলাকার মানুষ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমাদের এখন আর যাওয়ার জায়গা নেই।

রাজবাড়ী জেলা নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি মো. মোকারম হোসেন জানান, ভাঙন রোধে সরকারিভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। তাহলে তারা নতুন করে ঘর তুলতে পারবেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলাম জানান, পানি কমার ফলে গড়াইয়ের উজানে ও ভাটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর আগে পানি বৃদ্ধির সময় ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। এখন আবার পরিদর্শন শেষে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...