দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ার-ফেরিত বেপরোয়া ছিনতাই ও পকেটমার চক্র

বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলন্ত ফেরিতে জুয়াড়িদলের পাশাপাশি দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে ছিনতাই ও পকেটমার চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় পুলিশি টহল ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই সেখানে ছিনতাই ও পকেটমারের ঘটনা ঘটছে। এতে বিভিন্ন গাড়ির চালকসহ সাধারণ যাত্রীরা টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল খোয়াচ্ছে।

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার পাটুরিয়া একটি ব্যস্ততম নৌপথ। প্রতিদিন এ পথ দিয়ে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ হাজার হাজার যাত্রী ও ফেরি পারাপার হয়। পাশাপাশি লঞ্চেও পারাপার হয় হাজারো যাত্রী।

সেখানে সার্বক্ষণিক ফেরি সার্ভিস চালু থাকলেও রাতে চলাচলকারী ফেরিগুলোতে যাত্রী নিরাপত্তায় নিয়মিত পুলিশি পাহারা থাকে না। এ সুযোগে এলাকার ১৫ থেকে ২০ জনের এক দল দুর্বৃত্ত রাতের অন্ধকারে ট্রলার নিয়ে এসে যাত্রীবেশে চলন্ত ফেরিতে ওঠে। পরে সুযোগ বুঝে তারা ফেরির ভেতরে মোমের আলো জ্বালিয়ে জুয়ার আসর বসায়। ফেরিযাত্রীদের কেউ প্রলুব্ধ হয়ে ওই জুয়া খেলায় অংশ নিলে জুয়াড়িরা যাত্রীর কাছ থেকে টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। শেষে চলন্ত ফেরি থেকে ট্রলারে নেমে নদীর ভাটিপথে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই জুয়াড়িচক্রের প্রধান হোতা মাদার কাজী। তিনি স্থানীয় দৌলতদিয়া ইউনিয়নের শাহাদত মেম্বারপাড়া গ্রামের মৃত ছেদন কাজীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তাঁর দলবল সঙ্গে নিয়ে চলন্ত ফেরিতে জুয়ার ফাঁদ বসানোর পাশাপাশি দৌলতদিয়া যৌনপল্লী ও পাশের পোড়াভিটা এলাকায় মাদকের কারবার চালিয়ে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানা ও মানিকগঞ্জের শিবালয় থানায় অস্ত্র, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নৌপথে চলাচলকারী ফেরিসহ ঘাট এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশি টহল ব্যবস্থা না থাকায় চলন্ত ফেরিতে জুয়ার ফাঁদসহ দৌলতদিয়া ঘাটের বিভিন্ন পয়েন্টে ছিনতাই ও পকেটমার চক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে।’ গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি এজাজ শফী বলেন, ‘দৌলতদিয়া ঘাটে ছিনতাই ও পকেটমার চক্রে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। এরই মধ্যে ওই চক্রের বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

দৌলতদিয়া ঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ফোর্স সংকটের কারণে এই নৌপথে চলাচলকারী ফেরিগুলোতে নিয়মিত পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা রাখা সম্ভব হচ্ছে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...