রাজবাড়ীর ৬৮ রেলক্রসিং অরক্ষিত !

রাজবাড়ীতে তিনটি রেল পথের ৮৮ টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে বেরিয়ার ও গেটম্যান রয়েছে শুধুমাত্র ২০ টিতে। অন্তত ৬৮ টি রেলক্রসিংয়ে কোনো বেরিয়ার ও গেটম্যান নেই। এতে করে মাঝে মাঝেই দুঘর্টনার শিকার হতে হচ্ছে পথচারীদের।

বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজবাড়ীর সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয় সুত্রে জানাযায়, রাজবাড়ীতে মোট রেলপথ ৮৮ কিলোমিটার। এরমধ্যে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থেকে মাছপাড়া পর্যন্ত ৫৩ কিলোমিটার, পাঁচুরিয়া থেকে বসন্তপুর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এবং কালুখালী থেকে নলিয়াগ্রাম পর্যন্ত রেলপথের পরিমান ২৫ কিলোমিটার।

এসব রেলপথে তিন ধরনের ক্রসিং রয়েছে। প্রথমত, ক্রসিংয়ে বেরিয়ার ও গেটম্যান রয়েছে, বেরিয়ার নেই কিন্তু গেটম্যান রয়েছে এবং বেরিয়ার গেটম্যান কোনোটাই নেই। যেসব গেটে বেরিয়ার ও গেটম্যান কোনোটাই নেই সেখানে পথচারীরা নিজ দায়িত্বে রাস্তা পারাপার হয়।

গোয়ালন্দ ঘাট থেকে পাংশা উপজেলার মাছপাড়া রেলপথে বৈধ রেলগেট রয়েছে ১৪ টি। এখানে ১১ টি ক্রসিংয়ে গেটম্যান রয়েছে এবং বাকী তিনটিতে কোনো গেটম্যান নেই। অপরদিকে পাঁচুরিয়া-বসন্তপুর রেলপথে ছয়টি বৈধ রেলক্রসিং থাকলেও একটিতে কোনো গেটম্যান নেই। অপরদিকে কালুখালী ভাটিয়াপাড়া রেলপথের রাজবাড়ীর  অংশে  বৈধ রেলক্রসিং রয়েছে ১৮টি। এরমধ্যে শুধুমাত্র চারটিতে বেরিয়ার ও গেটম্যান রয়েছে। এখানে ১৪ টিতে বেরিয়ার ও গেটম্যান নেই।

এছাড়া এসব রেলপথে রাজবাড়ীর অংশে কম পক্ষে ৫০ টি অবৈধ রেলক্রসিং রয়েছে। যেখানে কোনো গেটম্যান বা বেরিয়ার নেই।এসব স্থানে নিজ দায়িত্বে রাস্তা পারাপার হতে হয়। স্থানীয়সুত্রে জানাযায়, রাজবাড়ীতে রেল জংশন রয়েছে দুটি। একটি পাঁচুরিয়া এবং আরেকটি কালুখালী।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থেকে রাজশাহী এবং খুলনা যাতায়াত করা যায়। পাঁচুরিয়া রেল জংশন সদর উপজেলায় অবস্থিত। পাঁচুরিয়া থেকে সরাসরি ফরিদপুর যাতায়াত করা যায়। অপরদিকে কালুখালী থেকে ফরিদপুর হয়ে গোপালগঞ্জ জেলার ভাটিয়াপাড়া সরাসরি রেলপথ রয়েছে। প্রতিদিন এসব রেলপথে স্থানীয় যাত্রীরা যাতায়াত করেন। এছাড়া প্রতি বছর রাজবাড়ী থেকে ভারতের মেদনী পুরের ওরসে সরাসরি ট্রেন যাতায়াত করে।

গত দশ মাসে  রাজবাড়ী সিমানার মধ্যে ১১ টি  দুর্ঘটনা ঘটেছে আর এতে সরকারী হিসেব মতে ১৫ জনের মৃত্য হয়েছে।

রাজবাড়ীর রেলওয়ে বিভাগের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবদুল হানিফ বলেন, এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে  তারাই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী বলেন, রেলওয়ে বিভাগ একটি আইসোলেটেড ডিপার্টমেন্ট। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...