বাংলা কথাসাহিত্যের রাজপুত্রের জন্মদিন আজ

নিজের জন্মদিনে আড়ম্বরতা পছন্দ ছিল না হুমায়ূন আহমেদের। তবু রাত ঠিক ১২টা ১ মিনিটে প্রিয়জন, বন্ধুবান্ধব, সুহৃদদের নিয়ে কাটতেন জন্মদিনের কেক। রাত গড়িয়ে সকাল হলে ভক্তরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাত প্রিয় লেখককে। এ ছাড়া দিনব্যাপী নানা আয়োজন তো থাকতই। বাংলা কথাসাহিত্যের রাজপুত্র আজ নেই। তবু বছর ঘুরে ঠিকই এসেছে সেই শুভক্ষণ। জন্মদিন উদ্যাপনের জন্য পরিবার, সেই সঙ্গে বিভিন্ন সংগঠন, সংবাদমাধ্যম ও টিভি চ্যানেল নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে। ১৯৪৮ সালের আজকের দিনে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। আজ ৭০তম জন্মদিন তাঁর।

হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন জানান, বরাবরের মতো পারিবারিকভাবে এদিন হুমায়ূন আহমেদকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। ধানমণ্ডির বাসা দখিন হাওয়ায় রাত ১২টায় জন্মদিন উপলক্ষে পারিবারিকভাবে কেক কাটা হয়। এ ছাড়া আজ সকালে হুমায়ূন আহমেদের গড়া গাজীপুরের পিরুজালী গ্রামের নুহাশপল্লীতে তাঁর সমাধিতে ফুল দেওয়া হবে। চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে আজ সকাল ১১টায় থাকছে লেখকের কিংবদন্তিতুল্য চরিত্রের নামে ‘হিমু মেলা’। এরপর সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে থাকছে হুমায়ূন আহমেদের একক বইমেলা। শুরু হবে বিকেল ৩টায়। বিকেল ৫টায় জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে থাকছে ‘হুমায়ূন সাহিত্যে বাঙালির জীবন ও সমাজ’ শীর্ষক সেমিনার। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে থাকছে নানা অনুষ্ঠান।

জননন্দিত এই লেখক-নির্মাতা নিউ ইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১২ সালের ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রিয় লেখকের প্রয়াণে নেমে এসেছিল শোকের ছায়া। মরদেহ দেশে আনা হয় ২৩ জুলাই। বিমানবন্দর থেকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে কফিন সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে। লাখো মানুষের অশ্রু-পুষ্প ও ভালোবাসায় সিক্ত হন লেখক। পরদিন তাঁর মরদেহ সমাহিত করা হয় তাঁরই গড়ে তোলা নন্দনকানন নুহাশপল্লীর লিচুতলায়।

প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ দিয়েই ১৯৭২ সালে সাহিত্যজগতে আবির্ভাব হুমায়ূন আহমেদের। মধ্যবিত্ত জীবনের কথকতা সহজ-সরল গদ্যে তুলে ধরে তিনি আজও পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন। পলিমার কেমেস্ট্রিতে আমেরিকার নর্থ ডাকোটা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করে হুমায়ূন আহমেদ নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে অধ্যাপনা করেন। এরপর সাহিত্য রচনাকেই তিনি তাঁর প্রধান কাজ হিসেবে গ্রহণ করেন। একাধারে তিনি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনা, টেলিভিশন নাটক রচনা ও পরিচালনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...