গোয়ালন্দে নারীদের ভোটের মালিক পরিবারের প্রধান ব্যক্তি

ভোট ব্যক্তির নিজস্ব মতামত কিংবা জনমত প্রতিফলনের একটি গণতান্ত্রিক মাধ্যম বা পদ্ধতিবিশেষ। কোন সভা কিংবা নির্বাচনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে ভোটের প্রয়োজন পড়ে থাকে। যিনি ভোট প্রয়োগ করেন তিনি ভোটার নামে পরিচিত। সাধারণতঃ আলোচনা, বিতর্ক কিংবা নির্বাচনী প্রচারণায় এর ভূমিকা অপরিসীম। গণতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্র – উভয় সরকার ব্যবস্থাতেই এটির প্রয়োগ প্রায় সময়ই লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু রাজবাড়ী ১ আসনে নারী ভোটারদের ভোটের প্রতিফলন ঘটে পরিবার প্রধানের সিদ্ধান্তে!

‘আমার ভোট আমি দেব, যাঁকে খুশি তাঁকে দেব’—এটাই গণতান্ত্রিক রীতি। কিন্তু রাজবাড়ী-১ আসনের গোয়ালন্দে অধিকাংশ নারী ভোটার স্বাধীনভাবে তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না। পরিবারপ্রধানের পছন্দের প্রার্থীকে (অযোগ্য হলেও) ভোট দিতে হয় তাঁদের।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলা এলাকা নিয়ে রাজবাড়ী-১ সংসদীয় আসন। এখানে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৪৬ হাজার ৩৭২। এর মধ্যে নারী ভোটার এক লাখ ৭২ হাজার ৩৩৩। গোয়ালন্দে নারী (৪৩ হাজার ১৩৫) ও পুরুষ (৪৩ হাজার ৫৭৫) ভোটার প্রায় সমান।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের পাল্লা ভারী করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘন ঘন বৈঠক করছে। উপজেলা শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে ভোটারদের মন জয় করতে নানা পরিকল্পনা করছে তারা।

গোয়ালন্দের দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা গ্রামের ভোটার গৃহবধূ আকলিমা বেগম বলেন, ‘সারা বছরে আমাগো কেউ খোঁজ রাহে না। কিন্তু ভোট আইলেই বড় বড় নেতারা আহে। তারা বাড়ি বাড়ি ঘুইরা মিষ্টি মিষ্টি কতা কইয়া খালি ভোট চায়। তয়, আমার সুয়ামি (স্বামী) যারে ভোট দিতে কইব, তারেই আমি ভোট দিমু।’

উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের দরাপের ডাঙ্গি গ্রামের ভোটার রোহিতন (৬০) বিবি বলেন, ‘আমার আলামিনের বাপ বাঁইচা থাকতে হে যারে ভোট দিতে কইছে, আমি তারেই ভোট দিছি। এইবার কারে ভোট দিমু তা জানি না। আমার ছাওয়াল আলামিন অহনো কিছু কয় নাই। ও যারে ভোট দিতে কইব, আমি তারেই ভোট দিমু।’

গোয়ালন্দ পৌর এলাকার এক স্কুলশিক্ষিকা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘শিক্ষিত হোক আর অশিক্ষিত হোক, এলাকার অধিকাংশ মহিলা ভোটার পারিবারিক কারণে স্বাধীনভাবে নিজ পছন্দে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না। অযোগ্য হলেও পরিবারপ্রধানের পছন্দের প্রার্থীকেই তাঁরা ভোট দিতে বাধ্য হন।’ প্রতিটি পরিবারে নারী-পুরুষের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে এ সমস্যা থাকবে না বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...