দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ফেরি সংকট

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে এক সপ্তাহ ধরে ফেরি সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। সঙ্গে নাব্য ও ঘাট সংকট থাকায় যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। শুক্রবার দুপুর নাগাদ উভয় ঘাট মিলে অন্তত সহস্র্রাধিক বিভিন্ন যানবাহন নদী পারের অপেক্ষায় আটকা পড়ে। সংকট কাটাতে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ড্রেজিং কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

তবে ফেরি সংশ্নিষ্টরা বলছেন, রুটের ৮টি রো-রো ফেরির মধ্যে চারটি বিকল থাকায় যানবাহন পারাপারে এ দুর্গতি দেখা দিয়েছে। দৌলতদিয়া ট্রাক টার্মিনালে আটকে থাকা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চালক লিটন মিয়া, লুতফর রহমান, সেলিম মিয়া, রমজান আলীসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, তারা গত সোমবার রাতে ঘাটে এসে শুক্রবার দুপুর পর্যন্তও ফেরির নাগাল পাচ্ছেন না। অথচ পরে এসে অনেক চালক দালালদের মাধ্যমে ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করে আগে ফেরি পার হয়ে যাচ্ছে। পাটুরিয়া ঘাটেও অন্তত পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে শত শত যানবাহন আটকে আছে। উভয় পাড় মিলে অন্তত সহস্রাধিক যানবাহন আটকে আছে।

বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এ রুটে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত মাত্র চারটি রো-রো, দুটি কে-টাইপ ও ৭টি ইউটিলিটি ফেরি চলছিল, যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম। স্বাভাবিক যানবাহন পারাপারের জন্য এখানে সার্বক্ষণিক অন্তত ৮টি রো-রো ফেরি চলাচল করা দরকার। কিন্তু গত এক সপ্তাহের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ রুহল আমীন ও আমানত শাহ এবং এক মাস আগে কেরামত আলী নামের আরেকটি রো-রো ফেরিকে সংস্কারের জন্য নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাত থেকে গোলাম মওলা নামের আরেকটি রো-রো ফেরি পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতিতে সংস্কারে আছে। বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ রণি জানান, নৌরুটে ফেরির সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং ঘাট ও নাব্য সংকট থাকায় যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত ৩টি রো-রো ফেরি বহরে আসার কথা রয়েছে। ফেরি তিনটি এলে এ সংকট কেটে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...