ইলিশ মিলছে না জেলের জালে

‘আঁধার থাকতে গাঙ্গে আইছি। টানা বৈকাল পর্যন্ত কোনা জাল বেয়ে ৮-৯টি ছোট আকারের ইলিশ পাইছি। এই মাছ বিক্রি করে বড়জোর ১৫শ’ থেকে ১৬শ’ টাকা পাব। সারাদিন গাঙ্গে থাকলে অন্তত ৬-৭শ’ টাকা খরচ হয়। আটজন মানুষ সারাদিন পরিশ্রম করলাম; কিন্তু কী নিয়ে ঘরে যাব! যে টাকা ভাগে পাব তা দিয়ে চাল-ডাল কিনব, নাকি ঋণ পরিশোধ করব?’ রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার অন্তার মোড় এলাকায় ইলিশ ধরতে আসা লিটন শেখ পদ্মা নদীতে ইলিশের আকাল নিয়ে এভাবেই বলছিলেন। তার বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের গোপালবাড়ী গ্রামে।

শুধু লিটন নন, তার মতো একই অবস্থা ইছাক সরদার, জুলহাস হোসেন, দেলোয়ার হোসেনসহ আরও অনেক জেলের। কারণ ভরা মৌসুমে পদ্মায় ইলিশের আকাল দেখে তারা হতাশাগ্রস্ত। তারা জানান, আশ্বিন, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসকেই ইলিশের মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এর মধ্যে গত মাসে টানা ২২ দিন সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় নদীতে নামতে পারেননি তারা। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষে তারা ইলিশ শিকারে নদীতে গিয়ে অনেকটা খালি হাতে ফিরছেন। ইলিশ না পেয়ে

পণ্ডশ্রমের পাশাপাশি লোকসানের মুখেও পড়েছেন তারা। গত বছর নিষেধাজ্ঞা শেষে এ এলাকায় বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। ইলিশে ছয়লাব হয়ে যায় পুরো এলাকা। দামও ছিল একেবারে কম। গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে এবারও অনেকে হাজার হাজার টাকা খরচ করে জাল ও নৌকা প্রস্তুত করেছেন। তবে এবার তারা হতাশ। একেকটি মাছ ধরা নৌকা প্রস্তুত করতে নৌকা ও জাল বাবদ তাদের তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে তারা জানান।

ইলিশ ব্যবসায়ী জব্বার মিয়া, খবির খান, শাহজাহান সরদারসহ কয়েকজন জানান, গত বছরের এ সময় নদীতে অনেক ইলিশ ধরা পড়ে। স্থানীয়সহ দূর-দূরান্ত থেকে অনেক ব্যাপারি ও খরিদ্দার এসে ইলিশ কিনে নিয়ে যান। এবার তেমনটি নেই। আলাপকালে পাবনার ঢালারচর এলাকা থেকে আসা জেলে মমিন শেখ জানান, কয়েক দিন ধরে নদীর বিভিন্ন স্থান চষে ফেলেও তেমন মাছ পাচ্ছেন না। তাই দু’দিন ধরে নদীতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। নদীতে গেলে যে টাকা খরচ হয়, সে খরচও উঠছে না। তিনি আরও জানান, ইলিশের মৌসুম পেরিয়ে গেলেও নদীতে ইলিশ মিলছে না।

এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল শরীফ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইলিশের মৌসুমও কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে, যার ফলে ইলিশ পাওয়া কমে গেছে। এ ছাড়া পদ্মার ভাটিতে অসংখ্য ডুবোচর এবং পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় এ অঞ্চলে খুব একটা ইলিশ আসতে পারেনি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদী ভরাট, ডুবোচর, বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় ইলিশের বিচরণ এ এলাকায় কমে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...