ড্রেজিংয়ের সুফল নেই দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাটে

দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার যানবাহন পারাপারে নৌরুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের এ গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটে ফেরি ও ঘাট অবকাঠামো সংকটের পাশাপাশি স্থায়ী সমস্যায় রূপ নিয়েছে নাব্য সংকট। শুষ্ক মৌসুমে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রতি বছরই কোটি কোটি টাকা খরচ করে পদ্মার এই চ্যানেল ড্রেজিং করা হচ্ছে। কিন্তু ভোগান্তির শেষ হচ্ছে না।

নাব্য সংকটের কারণে প্রতিদিন রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় যানজট লেগেই থাকছে। ফেরি পারাপারের সিরিয়াল পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এ সুযোগে জমে ওঠে পয়সার বিনিময়ে সিরিয়াল পাইয়ে দেয়ার বাণিজ্য।

বিআইডব্লিউটিএ, আরিচা কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০১৭ সালে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট, আরিচা-বাঘাবাড়ি, আরিচা-নগরবাড়ি মিলিয়ে ২৭ লাখ ঘনমিটার খনন করা হয়। চলতি বছর সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকেই নাব্য সংকটে পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ, আরিচা সেক্টরের ড্রেজিং শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী আক্কাস আলী জানান, এরই মধ্যে ২২ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। দৌলতদিয়া অংশে চারটি ও পাটুরিয়া অংশে তিনটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে খননকাজ চলছে। এখন পর্যন্ত ১৪ লাখ ৬০ হাজার ঘনমিটার পলি অপসারণ করা হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করা যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিআইডব্লিউটিএর নিজস্ব খনন রেট হচ্ছে ১২০ টাকা। সে হিসাবে ২২ লাখ ঘনমিটার খননে ব্যয় হচ্ছে প্রায় সাড়ে ২৬ কোটি টাকা।

তবে ড্রেজিংয়ে বছরওয়ারি খরচের কোনো হিসাব দিতে পারেননি বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নিজাম উদ্দিন পাঠান।

এদিকে দৌলতদিয়া ঘাটে বিআইডব্লিউটিএর কোনো অফিস নেই। ফলে কাজের তদারকিও ভালোভাবে হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আরিচা থেকে মাঝেমধ্যে কোনো কর্মকর্তা আসেন। তাছাড়া নদীর তলদেশ থেকে প্রকৃতপক্ষে কী পরিমাণ মাটি বা পলি কাটা হচ্ছে এ বিষয়টি তদারক করার জন্য আজ পর্যন্ত পৃথক কোনো সেল গঠন করা হয়নি। ফলে প্রতি বছর ড্রেজিং নিয়ে অনিয়ম হচ্ছে বলেই শুষ্ক মৌসুম এলেই নাব্য সংকট দেখা দিচ্ছে। তাছাড়া পলি অপসারণে প্রাচীন পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন অনেকে। নদী থেকে পলি কেটে আবার নদীতেই ফেলা হয়। ফলে খননের নামে প্রকৃতপক্ষে এক পাশের পলি দিয়ে আরেক পাশ ভরাট হচ্ছে। এসব কারণেই বছর বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেজিং শুধু সাময়িক সমাধান দিচ্ছে।

তবে এমন অভিযোগের ব্যাপারে একমত নন বিআইডব্লিউটিএ আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নিজাম উদ্দিন পাঠান। তিনি বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি ও পানি কমে যাওয়ার সময় নদীর উজানে ও বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙনের মাটি নৌযান চলাচলের চ্যানেলে পড়ছে। ফলে কোথাও ভরাট হচ্ছে বা ডুবোচর সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, একটি ফেরি স্বাভাবিকভাবে চলতে নদীতে কমপক্ষে নয় ড্রাফট (ফুট) গভীর পানির প্রয়োজন হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির গভীরতা কমে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকম হয়। কোনো এলাকায় ৫ ফুট আবার কোনো এলাকায় ৭ ফুট বা কিছু বেশি থাকে। তখন ড্রেজিং না করে উপায় থাকে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...