দৌলতদিয়া-বাঘাবাড়ী-নগরবাড়ী রুটে নাব্যতা সংকট

অসংখ্য ডুবোচর ও নাব্য সংকটে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট দৌলতদিয়া-নগরবাড়ী-বাঘাবাড়ীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল। এরই মধ্যে বিভিন্ন নৌবন্দর থেকে ছেড়ে আসা পণ্যবোঝাই অন্তত ১৫টি জাহাজ দৌলতদিয়া ৬ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় আটকা পড়েছে। গন্তব্যে পৌঁছতে না পেরে ১০-১২ দিন ধরে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন জাহাজের সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল দুপুরে দেখা যায়, গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে অন্তত এক কিলোমিটার ভাটিতে পদ্মা নদীর বাহিরচর এলাকায় নোঙর করে আছে এমভি শিফন-মুন, এমভি হাসান-আল আবরা, এমভি পূর্ণিমা, এমভি আবাবিল, এমভি আলম আল বাহার, এমভি বৌমনি, এমভি সবুজ, এমভি রোদেলা, এমভি জুবায়ের আহাদ, এমভি কাজল দীঘি, এমভি মালা, এম মিহি কণিকা, এমভি সারিফ-বাঁধন, এমভি সোহান-রিয়াদসহ অন্তত ১৫টি জাহাজ। আটকে থাকা জাহাজগুলো থেকে শ্রমিকরা মাঝ নদীতেই পণ্য খালাস করে বোলগেট ও ট্রলারে বোঝাই করছেন। এসব জাহাজে সার, সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ক্লিংকার, পোলট্রি খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে।

আটকে থাকা জাহাজ এমভি বৌমনির মাস্টার গোলাম মোস্তফা জানান, দৌলতদিয়া-বাঘাবাড়ী নৌপথের কাজীরহাট, নগরবাড়ী, বেড়া ও নাকালিয়া এলাকায় নাব্য সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। প্রয়োজনীয় নাব্য না থাকায় জাহাজগুলো গন্তব্যে পৌঁছতে পারছে না। এছাড়া নৌপথের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ডুবোচর। যে কারণে জাহাজগুলোকে বাধ্য হয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়েছে। একেকটি জাহাজ ১০-১২ দিন করে এখানে আটকে আছে। ফলে জাহাজের সবাইকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় জাহাজগুলো থেকে আংশিক পণ্য আনলোড করে জাহাজের ড্রাফট কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। সুবিধাজনক পরিস্থিতিতে বাঘাবাড়ী ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়া হবে।

আটকে থাকা অন্য একটি জাহাজের পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাটন ট্রেডার্সের প্রতিনিধি শেখ জুয়েল রানা জানান, চট্টগ্রাম থেকে সারবোঝাই জাহাজ নিয়ে তিনি সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী বন্দরে যাচ্ছিলেন। তবে পদ্মার এ এলাকায় এসে তাদের জাহাজটি নাব্য সংকটের কারণে আটকা পড়েছে। দু-একদিনের মধ্যে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করতে না পারলে কোম্পানিকে প্রতিদিন জাহাজপ্রতি ১০ হাজার টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। এক্ষেত্রে ২২ দিন পার হলে জাহাজের ভাড়া দ্বিগুণ পরিশোধ করতে হবে। তাই জাহাজ থেকে ট্রলারে ও বোলগেটে করে দ্রুত পণ্য খালাসের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণেও তাদের অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর আরিচা অঞ্চলের উপপরিচালক আব্দুর রহিম জানান, দৌলতদিয়া-নগরবাড়ী-বাঘাবাড়ী নৌরুটে ড্রেজিং করা হয়েছে। বর্তমানে পদ্মা নদীর ওই এলাকায় আট ফুট ড্রাফটের নৌযান চলাচল করতে পারছে। তবে যে জাহাজগুলো দৌলতদিয়া এলাকায় আটকা পড়েছে, সেগুলোর ড্রাফট অনেক বেশি। তাই আটকে পড়া জাহাজগুলোর আংশিক পণ্য আনলোড করে ড্রাফট আট ফুটের নিচে আনার চেষ্টা চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...