কাজে আসছে না ফেরির ফগ লাইট

ঘন কুয়াশার কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে আবারো ব্যাহত হচ্ছে ফেরি চলাচল। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সংযোজিত ফগ অ্যান্ড সার্চ লাইট অকার্যকর হয়ে পড়ায় এ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রতি শীতেই।

বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শীতকালে ঘন কুয়াশার কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল মাঝেমধ্যেই বন্ধ রাখতে হয়। এ সমস্যা থেকে রেহাই পেতে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ফগ অ্যান্ড সার্চ লাইট সংযোজন করা হয়। খানজাহান আলী, শাহ আলী, কেরামত আলী, ভাষা শহীদ বরকত এবং কে-টাইপ ফেরি কপোতি, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন, বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর, শাহ আমানত ও শাহ পরান ফেরিতে এ বিশেষ বাতি সংযোজন করা হয়। ২০১৫ সালের এপ্রিলে বাতিগুলো বুঝে নেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সে বছর শীত মৌসুমেই সেগুলো কোনো কাজে আসেনি। বাতিগুলো জ্বলে, কিন্তু কুয়াশা ভেদ করে দেখার মতো উজ্জ্বল নয়। এরপর তিন বছর পেরিয়ে গেল, কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

ঘন কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনা এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার কারণে দৌলতদিয়া আটকে পড়ে কয়েকশ যানবাহন। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কেটে গেলে ফেরি চলাচল শুরু হয়। অথচ প্রতিটি ফেরিতেই এখনো ফগ লাইট সংযোজিত আছে।

ঢাকা থেকে ফেরি কেরামত আলীতে আসা এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রচণ্ড শীতের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে অবস্থান করতে হচ্ছে। সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে ফেরিতে ফগ লাইট লাগিয়েছে। লাইটগুলো নিম্নমানের হওয়ায় সেগুলোর ব্যবহার হচ্ছে না ঠিকমতো।

মাঝ নদীতে আটকে পড়া ফেরিতে বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে আরেক যাত্রী খোকন মিয়া বলেন, ফেরিগুলো কুয়াশায় দিক হারিয়ে পদ্মার চরে আটকে যাচ্ছে। এ ঘন কুয়াশায় মাঝ নদীতে আতঙ্ক নিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে।

এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরিঘাটে অপেক্ষা করতে গিয়ে পণ্যের পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে বলে জানান যশোর থেকে ছেড়ে আসা সবজিবোঝাই ট্রাকের চালক আনোয়ার।

ফগ লাইট থাকা সত্ত্বেও কুয়াশায় ফেরি বন্ধ রাখার ব্যাপারে জানতে চাইলে শাহ আলী ফেরির মাস্টার (চালক) পরিমল চন্দ্র সরকার বলেন, ফগ অ্যান্ড সার্চ লাইট শুধু রাতে পথ দেখার জন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ফগ লাইটের আলো কুয়াশা ভেদ করে যেতে পারে না। ফলে ঘন কুয়াশার সময় লাইট জ্বালালেও সামনে কিছুই দেখা যায় না। তখন ফেরি বন্ধ করে বসে থাকতে হয়। এর একটা বিহিত হওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

তবে অকার্যকর ফগ লাইটের ব্যাপারে কোনো দায় নিতে চাইলেন না বিআইডব্লিটিসি, দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক সফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, এসব লাইট প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এ ব্যাপারে তারাই বলতে পারবে।

রাজবাড়ীতে বিআইডব্লিটিসি প্রকৌশল বিভাগের কোনো কার্যালয় না থাকায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...