ফরিদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট

ফরিদপুর সদরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকের মঞ্জুরিকৃত পদ রয়েছে ৩৬টি। এর বিপরীতে এখানে চিকিৎসক আছেন মাত্র ১৯ জন। এদের মধ্যে আবার একজন প্রশিক্ষণে রয়েছেন। আরেকজন প্রেষণে কাজ করছেন ঢাকায়। ফলে ১৭ জন চিকিৎসক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

চিকিৎসকদের দাবি, কর্মরত ১৭ জনের মধ্যে এক-চতুর্থাংশকে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তবু যে জনবল রয়েছে তা দিয়েই তারা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছেন। প্রয়োজনীয় জনবল পেলে সেবার মান আরো বাড়ানো সম্ভব।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিন একর জমিতে ২৫ শয্যা নিয়ে এ হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয় ১৯১৭ সালে। শতবর্ষের পরিক্রমায় বর্তমানে এটি একশ শয্যার ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল। এখানে সেবা নিচ্ছেন জেলা সদর ছাড়াও আশপাশের জেলা ও উপজেলার মানুষ। বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছেন গড়ে ৮০০ জন। আর আন্তবিভাগে সেবাগ্রহীতার সংখ্যা দৈনিক অর্ধশতাধিক। এছাড়া প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকছেন ১৩০ থেকে ১৫০ জন রোগী।

চিকিৎসকদের দাবি, চিকিৎসক সংকট সত্ত্বেও যারা রয়েছেন তারা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছেন। হাসপাতালের কার্ডিওলজির কনসালট্যান্ট ডা. মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, রোগীদের সেবা দিতে সবসময় তত্পর থাকি। কাজের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই রোগীদের আন্তরিক সেবাদানের চেষ্টা করি। তবে মাঝেমধ্যেই চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি প্রকট হয়ে ওঠে।

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গণেশ কুমার আগরওয়ালা জানান, বর্তমানে ১৭ চিকিৎসক উপস্থিত থাকলেও তাদের এক-চতুর্থাংশকে সিভিল সার্জন অফিসের বিভিন্ন দায়িত্বে ব্যস্ত থাকতে হয়। এতে রোগীদের স্বাভাবিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

রাজবাড়ী থেকে সেবা নিতে আসা মর্জিনা বলেন, আমার বাবার দাঁতে সমস্যা হওয়ায় এখানে এসেছি। লম্বা সিরিয়ালের কারণে ডাক্তার দেখাতে অনেক সময় লেগেছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকলে এত সময় লাগত না। রুবি নামে আরেকজন জানান, তিনি তার নাতিকে নিয়ে এসেছেন ডায়রিয়ার চিকিৎসার জন্য। দিনে দুবার চিকিৎসক আসেন। চিকিৎসকরা আন্তরিক হলেও একসঙ্গে অনেক রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. আবু জাহের বলেন, ভালো সেবা ও শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থান হওয়ায় হাসপাতালটিতে সবসময়ই রোগীর চাপ বেশি থাকে। ফলে স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে জেলার ২১ লাখ মানুষের একটি বড় অংশের সেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শুধু চিকিৎসকই নয়, হাসপাতালটিতে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরও সংকট রয়েছে। মঞ্জুরীকৃত এসব ১৩৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১০৪ জন। অবশিষ্ট ৩৩টি পদ খালি পড়ে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...