ফেরিঘাটে ভাঙন রোধে ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ

পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধিতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের দৌলতদিয়ায় ৪ ও ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া এ ভাঙন রোধে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ভাঙন এলাকায় ফেলা হচ্ছে বালিভর্তি জিও ব্যাগ।

গতকাল দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দেখা যায়, ফেরিঘাটের কাছে রাজবাড়ী পাউবো কর্তৃপক্ষ জিও ব্যাগ ফেলছে। শ্রমিকরা ট্রলারে বালি নিয়ে বস্তায় ভরছেন। এ সময় রানা নামে এক শ্রমিক জানান, ঈদের আগে ঘাটের কাছে যেসব স্থানে মাটি দেবে যায় কিংবা ভাঙন দেখা দেয়, সেখানে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সব থেকে বেশি। এখনো পানির তোড়ে মাটি ধসে পড়ছে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ছয়টি ঘাটের মধ্যে ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট সবসময়ই বর্ষায় ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকে। সম্প্রতি ভারি বৃষ্টিতে ও পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে ঘাট দুটির কাছে কিছু স্থান দেবে যায়। এসব স্থানে ভাঙন ঠেকাতে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার জন্য বিআইডব্লিউটিএকে জানানো হয়। নদীতে এভাবে পানি বাড়লে ঘাট দুটি আরো ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ দৌলতদিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানান, ঈদের আগে ও পরে ফেরিঘাটে যানবাহনের বাড়তি চাপ ছিল। পাশাপাশি হঠাৎ নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ঘাটের মাঝামাঝি এবং ১ নম্বর ঘাটের নিচের দিকে বিভিন্ন স্থান দেবে যায়। এছাড়া ঘাটের পন্টুনসহ অ্যাপ্রোচ সড়ক মেরামতের জন্য গত ২০ এপ্রিল থেকে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়। গত ১৩ জুন পর্যন্ত প্রায় ২৩ হাজার বালির বস্তা ফেলা হয়েছে। এখন বর্ষায় বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলছে পাউবো।

পাউবোর দৌলতদিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজবাড়ীর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফ সরকার বলেন, মূলত বিআইডব্লিউটিএর কাজ ঘাট রক্ষা করা। আর পাউবোর কাজ নদীভাঙন ঠেকানো। জরুরিভিত্তিতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট রক্ষায় ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করে পাউবো জিও ব্যাগ ফেলছে। কাজটি করছে গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...